Home জাতীয় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে
জাতীয় - 2 weeks ago

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এ বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি হবে বাংলাদেশ।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনামসহ পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষ চুক্তি আছে। বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী প্রয়োজন। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলছি। ফোর্সেস গোল প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছি অবকাঠামো নির্মাণ, কারিগরি সহায়তা, দেশটির স্থল সীমানায় মাইন অপসারণের জন্য।’

তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে যুদ্ধ হলে সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার রক্ষার প্রয়োজন হয়, সেখানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করবে। এখনে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। গত ১০ বছরে কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের বৈরিতা হয়নি, সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূর করতে আওয়ামী লীগ সরকারই বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বেসরকারি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তরুণা কর্মসংস্থান ব্যাংকের বিনা জামানতে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নিজেরাই কিছু কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি, সেখানে নিজের দেশে বসে ট্রেনিং নিয়ে এই সেন্টারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারে। যদি চাকরির হিসেবে কম হতে পারে, নিজে উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসংস্থান হচ্ছে। তরুণ সমাজের কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। রেডিও, টেলিভিশন, ব্যাংক, বিমাকে বেসরকারি খাতে দিয়েছি।’

কওমি মাদ্রাসা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ ভূখণ্ডে শিক্ষা শুরু কওমি মাদ্রাসা থেকে। দেশে ২০ হাজারের মতো মাদ্রাসা রয়েছে। ২০ লাখের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এতিম, গরিব, দরিদ্র্য ঘরের ছেলে-মেয়েরা সেখানে পড়তে যায়। পড়াশোনার একটা জায়গা পাচ্ছে। মাদ্রাসাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না, এটি সমাজের একটি অংশ। কাউকে আমরা বাদ দিতে পারি না। দীর্ঘদিন কওমি মাদ্রাসা পাঁচটি বোর্ডে বিভক্ত ছিল। মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোথাও চাকরি করতে পারত না। এরা তো দেশেরই সন্তান, তাদেরকে আমরা ফেলে দেব। কারিকুলাম তৈরি করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় সেজন্য উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফলে কওমি মাদ্রাসার নেতাদের সমঝোতায় নিয়ে আসি। দাওরাইয়ে হাদিসকে আমরা মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিয়েছি। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মাদ্রাসা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের কারখানা এ অভিযোগের সঙ্গে আমি একমত নই। হলি আর্টিজানের ঘটনায় দেখা গেছে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তান জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়েছে। সবকিছু থাকার পরও তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। শুধু মাদ্রাসাকে দোষারোপ করলে চলবে না। সংসদে সর্বসম্মতক্রমে আইন পাস করেছি, এ নিয়ে আর কোনো কথা বা প্রশ্ন তো থাকতে পারে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

কিংবদন্তী শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ’র অন্তিম বিদায়

কিংবদন্তী শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্নাইলাইহে রাজেউন)। আজ শনিবার…