রাজনীতি - 2 weeks ago

একাদশ নির্বাচন চাঁদপুর ৫ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে সফিকুল আলম ফিরোজ

হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসন। গত ১০টি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে চারটিতে আওয়ামী লীগ, চারটিতে বিএনপি এবং বাকি দুটিতে জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে।

বর্তমানে এই আসনে সংসদ সদস্য হলেন আওয়ামী লীগের মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর-উত্তম)। একসময়ের ত্যাগী নেতাদের পাশ কাটিয়ে নব্যদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন—দলের ভেতর এমন অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে দাবি করে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাট্টা স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতা।

আগামী সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও আরো  আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতেন পারেন তাঁরা হলেন কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগের সফিকুল আলম ফিরোজ ,সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগম মুক্তা, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মজুমদার ।

১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার রফিকুল ইসলাম। ওই সময় বেশ কিছুদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপির এম এ মতিনের কাছে হেরে যান তিনি। ২০০৬ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের মহাজোট থেকে মনোনয়ন চান ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা বাহাদুর শাহ। যদিও ওই নির্বাচন পরে পিছিয়ে যায়। ২০০৭ সালে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে দেশের বাইরে চলে যান রফিকুল ইসলাম। দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের টিকিটে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সংসদ সদস্য হন রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে সংসদে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় মেজর (অব.) রফিককে রাজনীতিতে যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, প্রথমসারির এমন নেতাদের সঙ্গে এখন তাঁর চরম বিরোধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েকটি জাতীয় দিবস ও দলীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করেছেন, বিক্ষুব্ধ এসব নেতারা। অন্যদিকে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামও নিজের অনুসারীদের নিয়ে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মূলত শীর্ষ নেতাদের অবমূল্যায়ন, দলের বাইরে অন্যদের প্রাধান্য দেওয়া নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ।

এই বিষয় শাহরাস্তি উপজেলার আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জেলা পরিষদ সদস্য হুমায়ুন কবির মজুমদার বলেন, ‘বিগত দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে জামায়াত-বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম। এটা করে মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ঐক্য বিনষ্ট করেছেন তিনি।’

শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন মশু বলেন, ‘সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। শাহরাস্তি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কুখ্যাত রাজাকার চেরাগ আলীর ছেলে মো. আলী মানিককে আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করেছেন। এতে প্রমাণিত হয়, সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে দলের ঐক্য ধরে রাখার জন্য আমরা প্রার্থী পরিবর্তন চাই।’

চাদপুর ৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায় সফিকুল আলম ফিরোজের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি । ৮০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন সফিকুল আলম ফিরোজ । গনভবনের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকেট সফিকুল আলম ফিরোজের পক্ষেই আসবে প্রায়টা নিশ্চিত । এছাড়া নিজ উদ্যেগে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি , এলাকাবাসীর সুখে দুঃখে পাশে থেকে মানুষের সেবা করে গেছেন । রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ি ও ক্রীড়া সংগঠক ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা

জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিরা যেন নির্বিঘ্নে ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে পারেন, সেজন্য ঢাকা মহানগর পুলি…